নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীতে অটোরিকশাচালক নাজমুল হোসেন হত্যা মামলায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। এ ঘটনায় আসামিদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বুধবার সকালে নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিদের ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল কোতয়ালী মডেল থানার অধীনে হওয়ায় তারা ভালো বলতে পারবেন।”
পুলিশ বলছে, গত ১৩ জুন নিখোঁজ হন হরিনাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী নাজমুল হোসেন। দুদিন পর ১৫ জুন সকালে কালিজিরা নদীর তেমাথা এলাকা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নাজমুলের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি অটোরিকশার সূত্র ধরে বুধবার ভোরে মিরাজ হোসেন শুভকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি তার ছোট ভাই ইমরান চালিয়েছেন বলে জানান। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ফাঁসির দড়ি ও রক্তমাখা একটি লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়। তবে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৮), হরিনাফুলিয়া এলাকার ফরিদা বেগম (৬০) এবং কামরুন্নাহার শিল্পী (৩৫)।
তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আসামিদের বসতঘরে আগুন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বলে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান।
মামলার বাদী ও হত্যার শিকার নাজমুলের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, “কী কারণে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো জানি না। এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ক্ষোভে ঘরে আসামিদের বসতঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।”