• ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এলো বিশাল আকৃতির মৃত তিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুন ৩, ২০২৬, ২২:৪৭ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এলো বিশাল আকৃতির মৃত তিমি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি বিশাল আকৃতির মৃত তিমি ভেসে এসেছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে তিমিটির অবস্থান নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে বেলিন (Baleen) প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, সৈকতে কর্মরত ওয়াটার বাইক চালকদের কাছে খবর পেয়ে তারা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিমিটি জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে গভীর সমুদ্রে ভাসছিল। কয়েকদিন আগেই মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাগরের স্রোতের কারণে এটি তীরে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে।

এ বিষয়ে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বন বিভাগের বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে তিমিটি প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে মারা গেছে। তবে বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

     ৷  কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৫৮ ফুটের মৃত তিমি  ৷ 

তিনি বলেন, জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্যসংকট, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণেও তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্ত এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মৃত তিমিটি যথাযথ সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান ভবিষ্যতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওসার হামিদ বলেন, মৃত তিমি ভেসে আসার বিষয়টি আমরা জেনেছি। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিমিটি তীরে এলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল