• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঠবাড়িয়ায় ‘ভুয়া’ ডি-কার্ড হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার: ২ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ২২:৫৫ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় ‘ভুয়া’ ডি-কার্ড হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রেফতার: ২ বছরের কারাদণ্ড
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ (১৯ এপ্রিল) রবিবার দুপুরে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পর নিজের আসল পরিচয় লুকাতে ওই ব্যক্তি বারবার নাম পরিবর্তন করছেন এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দেখাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

আটককৃত ওই ব্যক্তি নিজেকে ডা. লিয়াকত হোসেন পরিচয় দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের বিভিন্ন ক্লিনিকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে এক প্রসূতি মাকে পরীক্ষা করে তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে ভুল রিপোর্ট দেন ওই কথিত ডাক্তার। পরে ডা. সৌমিত্র মজুমদার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখেন বাচ্চাটি জীবিত ও সুস্থ।

এই ঘটনার পর তার প্রেসক্রিপশনের ভুল ও অসংলগ্নতা দেখে স্থানীয় চিকিৎসকদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সৌমিত্র সিনহা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।

 

পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথের
নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বন্দর গোডাউনে মসজিদের পাশে সাদেকা ভিলার নিচ তলা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি একেক সময় একেক নাম বলে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। প্রথমে নিজেকে ডা. লিয়াকত হোসেন দাবি করলেও বিএমডিসি (BMDC) ডাটাবেজে তার সত্যতা মেলেনি। পরবর্তীতে তিনি ডা. নুরুল ইসলাম এবং সবশেষে ‘উরিং চাং’ নামে এক চাকমা চিকিৎসকের পরিচয় দেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না।

এমনকি নিজের স্থায়ী ঠিকানার ব্যাপারেও বারবার মিথ্যা তথ্য দিচ্ছিলেন।
এ ব্যাপারে মঠবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও ) সৌমিত্র সিনহা জানান, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে তার আসল পরিচয় পাওয়া যায়। তার নাম সুবাস চন্দ্র মোহন্ত। বাড়ি বগুড়া।

তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রেখেছিল নুরুল হাসান। ভুয়া ডাক্তার ধরার
ক্ষেত্রে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্তদেবনাথ জানায়, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই ভুয়া ডাক্তারের ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল