• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মামলা যাচাই হবে, তালিকা দেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ৬, ২০২৬, ২২:৫৯ অপরাহ্ণ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মামলা যাচাই হবে, তালিকা দেওয়ার নির্দেশ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জেলা পর্যায় থেকে মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশকিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি জেলা পর্যায়ে যে জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা সে রকম দাখিল হয়েছে। এগুলো রিমোট ডিস্ট্রিক্টগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যা একটু বেশি। তাতে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব যেন আপনারা সবাই জানেন অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা, সেটা তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন এবং যেন স্বল্প সময়ের ভেতরে ডিসপোজ অব (নিষ্পত্তি) করতে পারে।

তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের যেন নিষ্কৃতি দেয় সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবেই হবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে।

ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‌‘আমরা বলেছি এটা দ্রুত পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে, আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা তো বিলম্ব করবেন না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কমিটি আমরা করে দিয়েছিলাম হেডেড বাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এডিএম, এসপি, পিপি এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছেন। তারা এই কমিটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণের কাছে জানিয়েছে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এই সব ভুয়া মামলা, মিথ্যা মামলাগুলো যদি কারও বিরুদ্ধে হয়, তারা একটা ফরম আছে এই ফরমের মধ্যে আবেদন করবে উইথ আইদার চার্জশিট, এফআইআর এবং এজাহারসহ। চার্জশিট হয়ে থাকলে চার্জশিটসহ কোন আদালতে মামলা ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করে। তারা সেটা যাচাই-বাছাই করে যদি সত্যিকারে সেই শ্রেণিভুক্ত মামলা হয় তখন সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবেন।

মন্ত্রী বলেন, এগুলো প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে। আমরা এর ওপর কোনো আইনি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নেব না। আমরা এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। ওখানে আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি আছে, তারা ভেটিং করে যদি সঠিক পায় যে সব মামলা প্রত্যাহারের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা সিআরপিসির ৪৯৪ অনুসারে সেগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব ভুয়া গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে, সেই মামলাগুলোর বিষয়ে আমরা আবার একটা পত্র দিয়েছিলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু কিছু মামলা, কিছু শ্রেণির মামলা অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না তখন। যেমন হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতন, মাদকপাচার, মানবপাচার এই সব মামলা এই আওতাভুক্ত করা ছিল না তখন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিবেচনা করেছি যে আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা ছিল, আমার জানামতে অন্তত দু-তিনটা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায়। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই মামলাগুলো ছিল। অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল, নারী নির্যাতনসহ যে কোনোভাবে যেন আটক রাখা যায় সেই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল।’

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল