নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল–ঢাকা নৌপথে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে রাজধানীর সদরঘাট থেকে সাতটি বিলাসবহুল লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ বাড়ায় লঞ্চের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে জানা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছয় থেকে সাতটি লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যাত্রীরা পরিবার—পরিজন নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আ. রহমান জানান, তিনি পরিবারসহ বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন এবং এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক। তবে ডেক ভাড়া ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা গত বছরের ঈদে ছিল ৩০০ টাকা—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক যাত্রী।
এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লঞ্চমালিকেরা। অভ্যন্তরীণ লঞ্চ মালিক সমিতির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকার স্থলে ১০ শতাংশ কম রেখে আদায় করা হচ্ছে এবং যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ সার্ভিসে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক সোলায়মান হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিসে সাতটি লঞ্চ বরিশালে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও লঞ্চ যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় ডেক ভাড়া ৩৫০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সরকারি রেটের চেয়ে কম।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আজ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত নৌপথে সব ধরনের বাল্কহেড (বলগেট) চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীপথে বয়া বাতি স্থাপন এবং নৌবন্দরে পুলিশ ও আনসার মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য ঝড়–ঝঞ্ঝার বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপদে লঞ্চ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছেন নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের বরিশালের আহ্বায়ক আ. রশিদ নিলু। তিনি বলেন, সরকারি রেটের অজুহাতে ভাড়া বৃদ্ধি জনস্বার্থবিরোধী এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।