• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিহত সোহেলের দাফন সম্পন্ন,স্ত্রী হাসপাতালে,বাবা বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬, ২২:৫৮ অপরাহ্ণ
নিহত সোহেলের দাফন সম্পন্ন,স্ত্রী হাসপাতালে,বাবা বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স : ঢাকার সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় নিহত যুবক সোহেল ফকিরের মরদেহ বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরখাককাটা গ্রামে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা বাবা মিরাজ ফকির এখনো বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের জন্য বাড়ি ফেরার পথে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। সোহেলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। মা, বোনসহ স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসী জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই চরখাককাটা গ্রামের মৃধাবাড়িতে মানুষের ভিড় জমে। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকায়।

জানা যায়, জোহরের নামাজের পর স্থানীয় নুর মোহাম্মদ মৃধাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সোহেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের চাচা ফারুক ফকির জানান, মিরাজ ফকির প্রায় ২০ বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমান এবং সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি ট্যানারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি ছেলে সোহেলকে ঢাকায় নিয়ে যান। সোহেলও বাবার সঙ্গে একই পেশায় যুক্ত হন। দুই বছর আগে সোহেলের বিয়ে হয় এবং তিনি স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

তিনি আরও জানান, সোহেলের মা তিন কন্যাসন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও সোহেল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ঢাকার সদরঘাট এলাকায় একটি ট্রলার থেকে ‘আসা-যাওয়া’ নামের লঞ্চে ওঠার সময় ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল ফকির নিহত হন। এ সময় তার বাবা মিরাজ ফকির বুড়িগঙ্গা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ মিরাজ ফকিরকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল