নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসক ও নার্সরা প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভোলা শহরের মাছুমা খানম স্কুল রোড এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের রাড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. পারভেজ হাওলাদারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জ্বরে আক্রান্ত হলে বৃহ¯পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মনিরা সুলতানা নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন আগেই তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।
প্রসূতির স্বামী মো. পারভেজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, রোগী শারীরিকভাবে সিজারের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচার করানো হয়। চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই তাদের নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত নবজাতকের ফুফু খাদিজা আক্তার জানান, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হোসনে আরার খিচুনি শুরু হয়। কিন্তু খিচুনির চিকিৎসা না করে দ্রুত সিজার করানো হয়। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর চিকিৎসক বের হয়ে জানতে চান, কেন আরও আগে সিজার করানো হয়নি। পরে আমাদের জানানো হয় নবজাতক মারা গেছে। এছাড়া প্রসূতির অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
পারভেজ ও হোসনে আরা দম্পতির এটি ছিল দ্বিতীয় সন্তান। এর আগে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতালের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অবরুদ্ধ চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু আলামতও সংগ্রহ করে পুলিশ। আতঙ্কে হাসপাতালের কয়েকজন রোগীকেও বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি হওয়ার পর রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় স্বজনদের সিদ্ধান্তে শুক্রবার সিজার করা হয়। এটি ছিল রোগীর দ্বিতীয় সিজার। অস্ত্রোপচারের আগেই চিকিৎসক রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছিল। তাদের সম্মতিতেই অপারেশন করা হয়। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।