• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য জীবনে অজানা কষ্ট, কনস্টেবল বেছে নিলেন আত্নহত্যার পথ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ২৩:০৬ অপরাহ্ণ
দাম্পত্য জীবনে অজানা কষ্ট, কনস্টেবল বেছে নিলেন আত্নহত্যার পথ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেস্ক : করতেন পুলিশে চাকরি। নিজের হাতে থাকত সবসময় রাইফেল। সেই অস্ত্র দিয়েই নিজের জীবন শেষ করে দিলেন এক কনস্টেবল। কী এমন কষ্ট ছিল তার। যে কষ্ট কেউ জানত না। নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন সম্রাট বিশ্বাস। তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি- দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

‎শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে অস্ত্রাগারে দায়িত্বরত অবস্থায় সম্রাট নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট সবার ছোট। বড় বোন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ও ছোট বোন মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। ২০১৮ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান সম্রাট। চাকরিরত অবস্থায় প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পুঁজা দাশের সঙ্গে। ছয় মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে রেজিস্ট্রি করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সামনের মাসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল তাদের। কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল সম্রাট ও তার স্ত্রীর মধ্যে। গতরাতে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি হয় সম্রাটের। মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ ছিলেন তিনি। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।

সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।

‎বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।

‎সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, আমার শালাবাবু মা-বাবার সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে যা বলতো পরিবার তাই মেনে নিত। ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছে পরিবার তাই মেনে নিয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন যাবৎ ওর ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এর কারণেই ও আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া আমরা আর কোনো কারণ খুঁজে পাই না। ওর সহকর্মীরাও বলেছে গতরাতে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিচার চাই।

‎খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, সম্রাট বিশ্বাস আজ ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল