এ ঘটনায় বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোফাজ্জেল হোসেন খানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য আব্দুর রহমানের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় ছিল ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামের। সেই সূত্র ধরে গত ৭ মার্চ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আব্দুর রহমান জরুরি কাজের কথা বলে তাকে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় ডেকে নেন।
রাত ৯টার দিকে সেখানে গেলে আব্দুর রহমান তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই চক্রের ৮-১০ জন সদস্য অবস্থান করছিল। কক্ষের সামনে গেলে নারী সদস্য ম্যালাইসা তার সঙ্গে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর চক্রের সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক কক্ষে নিয়ে খাটের ওপর বসিয়ে রাখে।
এরপর ওই তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে ভিডিও ধারণের হুমকি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। একপর্যায় তার কাছ থেকে পকেটে থাকা ১ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা এবং আরও ১৩ হাজার টাকা এনে দিতে চাপ দেয়।
পরিস্থিতি বুঝে কৌশলে বিষয়টি হিজবুল্লাহ সম্রাট নামের এক ব্যক্তিকে জানালে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে রাতেই কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে অভিযান চালিয়ে তরুণী মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা ও সান্টু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল মালিক, ম্যানেজারসহ চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানান, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।