• ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরিশালে ভোটের মাঠে বিএনপির চার বিদ্রোহী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ২৩:৫১ অপরাহ্ণ
বরিশালে ভোটের মাঠে বিএনপির চার বিদ্রোহী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের ৪টি নির্বাচনি এলাকায় এখনো রয়ে গেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। যে কোনো মূল্যে ভোট যুদ্ধে থাকার ঘোষণা তাদের। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্যোগ নিলেই হয়তো সমস্যার সমাধান হবে বলে ধারণা দুই প্রার্থীর ঘনিষ্ঠজনদের। এই ৪ প্রভাবশালী নেতার স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী সমর্থন থাকায় শেষ পর্যন্ত তারা ভোট যুদ্ধে থাকলে শঙ্কায় পড়তে পারে ধানের শীষ। এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভোটার ও দলের নেতাকর্মীরা।

এই অঞ্চলে বিএনপির সবচেয়ে আলোচিত বিদ্রোহী প্রার্থী পটুয়াখালী—৩ (গলাচিপা—দশমিনা) আসনের হাসান মামুন। তার বিপরীতে প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর। আসনটি তাকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে হাসান মামুনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও বোঝাচ্ছেন তাকে। তবে নির্বাচন প্রশ্নে অনড় তিনি। নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও রয়েছেন তার সঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত দলের হাইকমান্ড। হাসান মামুন মাঠে থাকলে নুরের জয় পাওয়া কঠিন হবে জানান স্থানীয়রা। বরিশাল—১ (গৌরনদী—আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। দলীয় প্রার্থী সাবেক সংসদ—সদস্য জহিরুদ্দিন স্বপনের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, সোবাহান না থাকলে এখানে ধানের শীষ নিশ্চিন্তভাবে জিতে যাবে। কিন্তু তার উপস্থিতি শঙ্কা বাড়াচ্ছে। বিএনপির ভোট ভাগ হওয়ার সুযোগ নিতে পারে জামায়াত। ইঞ্জিনিয়ার সোবাহান যুগান্তরকে বলেন, এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।

বরিশাল—৩ (বাবুগঞ্জ—মুলাদী) আসনে বিএনপির জয়ের কাঁটা হয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুলাদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সাত্তার খান। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি কথা বলেন তার সঙ্গে। এরপর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দলের নির্দেশে আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল প্রত্যাহারের আবেদন দিয়েছি।

পিরোজপুর—২ (ভান্ডারিয়া—কাউখালী—নেসারাবাদ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আহম্মেদ সোহেল সুমন মঞ্জুরের বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন প্রয়াত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ভাতিজা বিএনপি নেতা মাহমুদ হোসাইন ভিপি মাহমুদ। তিন উপজেলায় তার বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। বাতিল হওয়া মনোনয়নের বৈধতা ফেরাতে আইনি লড়াই করছেন ভিপি মাহমুদ। ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন তিনি। মনোনয়ন বৈধ হলে এখানে বিএনপির জয় পরাজয়ের ফ্যাক্টর হতে পারে এই বিএনপি নেতা।

এছাড়া ঝালকাঠি—১ (রাজাপুর—কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম সৈকত। তিনি বলেন, নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটার, যারা আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাদের মাঝপথে ফেলে চলে যাওয়া সম্ভব নয়।

উল্লিখিত ৪টি নির্বাচনি এলাকার ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, এবার ভোটে ভিন্ন রকমের পরিস্থিতি। প্রায় সব নির্বাচনি এলাকাতেই রয়েছে জটিলতা। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্রোহীদের বসানো না গেলে জয়ের প্রশ্নে শঙ্কায় পড়বে বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, সময়তো ফুরিয়ে যায়নি। আশা করি শেষ পর্যন্ত কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল