মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় : বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ALDC Crush and Confession’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে অশ্লীল ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত কথোপকথন ও কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের বিভিন্ন ছাত্রী ও শিক্ষকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ওই গ্রুপে প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব ছবির সঙ্গে অশালীন মন্তব্য, আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি এবং কুরুচিপূর্ণ লেখা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত কথোপকথন ও ভিডিও প্রকাশেরও অভিযোগ রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
কলেজের মানবিক বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী আফরোজা মৌ (ছদ্মনাম) বলেন, “আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে যেসব ছবি ব্যবহার করি, সেগুলো অনুমতি ছাড়া এই পাবলিক গ্রুপে আপলোড করা হয়েছে যা খুবই বিব্রতকর। একজন শিক্ষার্থীর ছবি নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হলে তার মানসিক অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ে। বিষয়টি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
বিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সাদমান রাফি (ছদ্মনাম) বলেন, “কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট বা ভিডিও তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করার অধিকার কারও নেই। এসব পোস্টের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিকভাবে বিব্রত হচ্ছে এবং কেউ কেউ সুইসাইডের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যারা এ ধরনের কাজ করছে, তাদের পরিচয় তদন্ত করে বের করা উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ, গ্রুপটিতে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অনেককে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। বাদ যাননি কলেজের এক প্রাক্তন অধ্যক্ষ। তার কাছে অর্থ দাবি এবং ব্লাকমেইল করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।
কলেজের কয়েকটি গোপনীয় সূত্রের দাবি, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এই অপকর্ম করা হচ্ছে। যার পিছনে কলেজর বর্তমান কিছু শিক্ষক উৎসাহ দিচ্ছেন বলে জানা যায়।
বিষয়টি নিয়ে অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ তপংকর চক্রবর্তী বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশ্লীল ছবি বা ভিডিও প্রচার এবং ব্ল্যাকমেইল করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না গেলে শুধু ভুক্তভোগী নয়, পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, “এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য নিয়ে অশালীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এসব করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল হক বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এ ধরনের পোস্ট ও অশ্লীল ভিডিও প্রচার অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গ্রুপটি বন্ধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এই বিষয়ে কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার বলেন, “কারও ব্যক্তিগত ছবি, তথ্য বা কথোপকথন অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা গুরুতর অপরাধ। এই বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”