নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদীতে ঢালাই দেওয়ার পর ভেঙে পড়ল প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজ। বুধবার সকালে ব্রিজের ছাদ ঢালাই দেওয়ার পর বিকেলেই তা ভেঙে পড়ে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে না জানিয়ে তার অনুপস্থিতিতেই ব্রিজের ছাদ ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার বলেন, ঢালাইয়ের একদিন আগে গত মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্রিজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরদিন বুধবার ব্রিজের ছাদ ঢালাই দেওয়ার কথা তাদের জানানো হলেও কেউ পরিদর্শনে আনেনি।
সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের অধিনে গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের আহম্মেদকাঠী খালের ওপর ৩৯ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার হয়। ওই কাজের টেন্ডার পান বরিশালের ডায়নামিক আইসিটি সপ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২৪ সালের জুন মাসে ব্রিজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কোনো কাজ করেনি ঠিকাদার।
২৪-এর ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে কাজটি সেভাবেই পড়ে থাকে। তবে পূর্বের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজের সময় বাড়িয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি শুরু করেন গৌরনদী উপজেলার ঠিকাদার আবুল খায়ের। গত জুন মাসে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস বলেন, সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন মাসে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই ঠিকাদার তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন নি।
তিনি বলেন, ব্রিজের ঢালাই দেওয়ার আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করে তার উপস্থিতিতেই ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার আমাকে না জানিয়েই ব্রিজের ঢালাই দিয়েছেন।
কাজে অনিময় করতেই তিনি এমনটা করেছেন বলে দাবি করেন পিআইও খোকন চন্দ্র দাস।
তিনি বলেন, শুনেছি ব্রিজটির ঢালাই দেওয়ার পর তা ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে।
ব্রিজের কাজের অনুকূলে কত টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজের জন্য এখন পর্যন্ত এক টাকাও ছাড় দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার আবুল খায়ের বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং এক ইঞ্জিনিয়ার ব্রিজের কাজ পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। ওই সময় তাদের ব্রিজে ঢালাই দেওয়ার সময় জানানো হয়েছিল। কিন্তু বুধবার ব্রিজের ঢালাই দেওয়ার সময় তারা কেউই আসেননি। এমনকি কখনোই তারা ঢালাইয়ের সময় ফিল্ডে যান না। মাঝে মধ্যে গেলেও দেখে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসেন। হয়তো নিজেদের রক্ষা করার জন্যই তারা এখন সব কিছু অস্বীকার করছেন। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার তাতো আমারই হয়েছে।
কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে ঠিকাদার আবুল খায়ের বলেন, বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সেন্টারিংয়ের বাঁশ পড়ে যাওয়ায় ব্রিজটি ধসে পড়েছে। এতে তার কমপক্ষে ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওই ব্রিজটি পরিদর্শনে গিয়ে কাজের অনিয়ম পান। তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে গুণগত মান ঠিক রেখে ব্রিজের কাজ করতে বলেন এবং ঢালাই দেওয়ার আগে তাকে অবহিত করার জন্য বলেন। কিন্তু ঠিকাদার অসৎ উদ্দেশ্যের জন্য পিআইওকে না জানিয়েই বুধবার সকালে ব্রিজের ঢালাই দিয়েছেন এবং বুধবার বিকেলেই তা ভেঙে পড়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য সংশ্লিষ্ঠ ঠিকারকে নোটিশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দোষী প্রমাণিত হলে ওই ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে পিআইওর কোনো গাফিলতি প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।