নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে ৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৬ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে মো. সালাহউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে। সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান এবং সম্পদ অর্জনের প্রকৃত উৎস গোপনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সালাহউদ্দিন রিপনের জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিজের ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে-বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং দায়-দেনার বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৩ জুন তিনি নিজের নামে অর্জিত সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎস উল্লেখ করে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে তিনি ৪১ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকার স্থাবর এবং ৪ কোটি ২৮ লাখ ৭২ হাজার ২০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দেন। পাশাপাশি ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪৯ টাকার দায়-দেনা থাকার কথাও উল্লেখ করেন।
দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর নামে মোট ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ২০০৭-২০০৮ থেকে ২০২০-২০২১ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর মোট গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫ টাকা। এ সময়ে তিনি ব্যয় করেছেন ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৬ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ আয়ের বিপরীতে সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৯ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, বৈধ আয়ের উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের বাইরে তাঁর নামে ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকার সম্পদ রয়েছে। বৈধ উৎসের সঞ্চয় বাদ দেওয়ার পর ৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৬ টাকার সম্পদের অসংগতির তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ অর্জনের জন্য ব্যবসার আয়কে অর্থের উৎস হিসেবে দেখানো হলেও দুদকের যাচাইয়ে ওই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় ও সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেছেন তিনি।
দুদকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মো. সালাহউদ্দিন রিপন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।