• ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে মাদকের আসরে ডিএনসির অভিযান, পুলিশ সদস্যসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৮, ২০২৬, ২২:১০ অপরাহ্ণ
বরিশালে মাদকের আসরে ডিএনসির অভিযান, পুলিশ সদস্যসহ আটক ৪
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা—কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিরাজুল ইসলামের টিনশেড বাসায় অভিযান চালিয়ে এক পুলিশ সদস্য ও এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার শেষরাতে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে সকাল পর্যন্ত।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেন (৩৮), মিরাজুল ইসলাম, নাহিদ হাসান (২৬) ও ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)।

ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোররাতে পাঁচগাঁও গ্রামের ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় ভেতরে অবস্থানকারীদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি করেছে ডিএনসি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সূর্যের আলো ফোটার পর পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাসার টিন ভেঙে লাফ দিয়ে কাদামাটিতে পড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ডিএনসির সদস্যরা তাকে আটক করতে গেলে উভয়ের মধ্যে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। পরে দেলোয়ারসহ চারজনকে আটক করা হয়।

ডিএনসি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো মাদকের চালান পাওয়া যায়নি। তবে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, মিরাজুল ইসলামের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় পদ—পদবি না থাকলেও তিনি শ্রমিকদলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সরবরাহসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বিমানবন্দর থানা পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তিনি প্রায়ই মিরাজের বাসায় অবস্থান করতেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে।

অভিযানের পর আটক চারজনের মধ্যে এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ডিএনসি। অপরদিকে মিরাজুল ইসলামসহ বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, একই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের একজন পুলিশ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ডিএনসির উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, “বিমানবন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক নিজে এসেছিলেন এবং তিনি ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল