নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে পড়ে সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ভবন থেকে লাফ দিয়েছেন নাকি পড়ে গেছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতের সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার নাম মো. নাজমুল হক। তিনি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবদুস সালাম হাওলাদারও নাজমুল হকের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে নাজমুলের পরিচয় নিশ্চিত করেছি। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আসলে বিস্তারিত বলা যাবে।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খোকন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, নাজমুল হক ষষ্ঠ তলা থেকে লাফ দিয়েছেন। আবার কেউ বলেছেন, তিনি ষষ্ঠ তলার বারান্দা থেকে পড়ে গেছেন। কীভাবে তিনি নিচে পড়ে গেলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমরা ভবনের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ না করে পড়ে গেছেন না লাফ দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হতে পারছি না।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ—পরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালত ভবনের নিচে উপুড় অবস্থায় নাজমুল হকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছয়তলা থেকে পড়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নাজমুল হকের সহকর্মী ও কলেজের প্রধান সহকারী হাফিজা আক্তার জানান, নাজমুল হকের বাসা নগরীর কাশিপুর এলাকায়। তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন বলে তারা শুনেছেন। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তিনি জানেন না।
হাফিজা আক্তার আরও বলেন, মঙ্গলবারও নাজমুল হক কলেজে অফিসের কাজ করেছেন। বেলা তিনটার দিকে তিনি কলেজ থেকে বের হন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর আদালত ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যুর খবর তারা জানতে পারেন। খবর পেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।