• ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাঠিসোঁটা হাতে শিবির-ছাত্রদলের অবস্থান, উত্তপ্ত ইবি ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ২২:০২ অপরাহ্ণ
লাঠিসোঁটা হাতে শিবির-ছাত্রদলের অবস্থান, উত্তপ্ত ইবি ক্যাম্পাস
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকাল ৪টার দিকে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন। একইসাথে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

জানা যায়, এদিন দুপুর ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের। তিনি হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছলে শাখা ছাত্রদলের সদস্য ও আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আলীনুর হঠাৎ এসে তাকে চড়-থাপ্পড় শুরু করে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আলীনূর তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে আলিনূর হলের ২১৭ নং কক্ষে চলে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এসময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। এসময় ভুক্তভোগী জুহায়ের সেখানে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অলীনূরকে রুম থেকে আনতে যায়। পরে সেখানে শিবির কর্মীদের উত্তেজনায় তাকে বের করতে না পারলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সভা ত্যাগ করেন। সভা থেকে বের হতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরবর্তীতে অলীনূরকে পুলিশী সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে নিতে গেলে শিবির কর্মীরা তার উপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারে এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে।

এ ঘটনার পরপরই বিকেল চারটার দিকে গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে বহিরাগত বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদেরকে মহড়া দিতে দেখা যায়। একইসঙ্গে লাঠিসোটা হাতে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবির। পরে সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়। সর্বশেষ এই রিপোর্ট লেখার সময় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হল পকেট গেট ও আজিজ হল পকেট গেটে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় জামায়াত ও শিবির কর্মীরা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি জুহায়ের হোসেন বলেন, আমি ক্লাস শেষে অনুষদে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ আলীনূর এসে আমাকে থাপ্পড় মারে এবং গালাগালি করে। পরে কেন আমাকে মারল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই মেরেছি। আপনি কী করতে পারেন করেন।’ আমি তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করছি। পাশাপাশি তিনি হলের অবৈধ শিক্ষার্থী। তাঁকে হল থেকে বের করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলীনূর রহমান বলেন, ‘আমি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেন। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সঙ্গে আমার আগে কোনো সমস্যা ছিল না।’

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল কর্মী রাহী আমাদের নেতা-কর্মীদের গালাগালি করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রদলের নেতারা সমঝোতার আলোচনা থেকে বেরিয়ে যান। তাঁরা মূলত বিচার চান না।

ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বিষয়টি সমাধানে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল