অনলাইন ডেক্স : বারবার চোটের থাবা মাড়িয়ে, বহু কাঠখর পুড়িয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। সেই খুশিতে আনন্দাশ্রু ঝড়েছিল তার চোখে। কিন্তু সেই খুশি উড়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার দিন দুয়েক পরই আবারও নতুন চোটে পড়েন নেইমার।
ব্রাজিলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর নেইমারের ডান পায়ের এমআরআই করা হয়। রিপোর্টে জানা যায়, ডান পায়ের মাংসপেশির ‘গ্রেড-টু’ চোটে পড়েছেন নেইমার। যে কারণে অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে নেইমারকে। সেই হিসেবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামা হবে না তার।
এমনিক শঙ্কা তৈরি হয় তার বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে। গুঞ্জন ওঠে এমন অবস্থায় হয়তো বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকেই ছেটে ফেলা হবে নেইমারকে। এবার সেসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চোট থাকলেও নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সময় নেইমার এই চোট পান। শুরুতে সান্তোস ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটটিকে সাধারণ মনে করলেও ব্রাজিলের ‘গ্রাঞ্জা কোমারি’ ট্রেনিং বেসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, নেইমারের সমস্যাটি বেশ গুরুতর।
কোচিং স্টাফের আশা, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই নেইমারকে মাঠে পাওয়া যাবে। আনচেলত্তি বলেন, ‘দল ঘোষণার আগে আমরা সান্তোসের কাছ থেকে একটি বিবৃতি পাই, যেখানে জানানো হয়েছিল যে তার কিছুটা সমস্যা (এডিমা বা তরল জমে ফুলে যাওয়া) রয়েছে। তবুও কোচিং স্টাফের পরিকল্পনায় তার থাকাটা জরুরি ছিল বলেই তাকে দলে ডাকা হয়।’
পরবর্তী পরিস্থিতি বর্ণনা করে আনচেলত্তি বলেন, ‘গত ২৭ তারিখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নেইমারের চোটের আসল গভীরতা সম্পর্কে জানতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আমাদের বিশ্বাস নেইমার যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠবে। সে ভালোভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং মানসিকভাবেও চাঙ্গা আছে।’
এরপর নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হবে না জানিয়ে ব্রাজিলের এই মাস্টারমাইন্ড বলেন, ‘একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিই— পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সে আমাদের সাথেই থাকছে। আমাদের ধারণা, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সে খেলতে পারবে। যদি প্রথম ম্যাচে নাও পারে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই ও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।’
এর আগে খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিট থাকার বিষয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটিও পরিষ্কার করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, এমন কোনো খেলোয়াড়কে আমি দলে নিতেই পারি, যে হয়তো এই মুহূর্তে শতভাগ ফিট নয়, কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালীন ফিট হয়ে উঠবে। তবে দুর্ভাগ্যবশত মিলিতাও, রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের ক্ষেত্রে সেই সুযোগটি আর থাকছে না। চোটের কারণে তারা এবারের বিশ্বকাপ মিস করছেন।’
ব্রাজিলের মেডিকেল টিম বর্তমানে নেইমারের চোটের ওপর কড়া নজর রাখছে। আগামী ১৩ জুন শনিবার নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচে নেইমারকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়ার লক্ষ্যেই মূলত কাজ চলছে।