অনলাইন ডেক্স : দেশের কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো জেলখানায় একজন কয়েদির জায়গায় থাকছে ৪ জন। এছাড়া মাদকাসক্ত ও কিশোর অপরাধীদের আলাদা করার কারণে বেগ পেতে হচ্ছে জেলখানাগুলোতে।
এদিকে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির চেয়ে হাজতি বেশি হওয়ায় তাদের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে চলছে কারাগারগুলো।
দেশের ৭৪টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। তাদের মধ্যে দুই তৃতিয়াংশই বন্দি আছেন বিচারাধীন মামলায়। দণ্ডপ্রাপ্ত না হয়েও দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হচ্ছে অনেককে।
অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাগারের নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হচ্ছে। বন্দিদের গাদাগাদি করে রাখায় সংক্রামকসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে।
কারা অধিদপ্তর বলছে, দেশের ৭৪টি কারাগারে সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৮৬ জন। বর্তমানে সেখানে বন্দি আছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৩ জন। এর মধ্যে হাজতী ৭২ হাজার ২৯১। বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত ৩৫ হাজার এবং যাবজ্জীবন কয়েদি ৬ হাজার ৬২৩জন। সক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দির ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সরকার কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার জন্য খুব চেষ্টায় আছে। এটার কিন্তু একটা প্রভাব কারাগারে আছে। বন্দির সংখ্যাটা দেখলেই বুঝবেন বাইরে সরকার কতটা চেষ্টা করছে। কিশোর বন্দির সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। মাদকের ব্যাপারে এই সরকার খুবই কঠোর। মাদকের আইন পাস করেছে। মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার বন্দির সংখ্যা কারাগারে বেড়ে যাচ্ছে।’
সাবেক কারা কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের কারগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে। আসামিদের প্রায় ৭০ ভাগই বিচারাধীন মামলার হাজতি হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের সংখ্যা পরিবর্তন হয়। এমন নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেই চলছে কারা অধিদপ্তর।
কারা অধিদপ্তরের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ‘যে পরিমাণ বন্দি রয়েছে, তাদের জন্য কিন্তু সেই পরিমাণ টয়লেট বা ওয়াশরুম নাই। রাজনৈতিব কারণে বন্দি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টা একদিন–দুইদিন বা ১৫ দিন ঘটতে পারে। তারপরে কিন্তু আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারশ বন্দি জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। ’
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারের আরেকটি স্পর্শকাতর বিষয় হলো বিদেশি বন্দিরা। ভাষা-সংস্কৃতিগত সমস্যা ও ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের কারণে তাদেরকে কারাগারে রাখতে নানামুখি চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়।