• ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপিতে হেভিওয়েটদের লড়াই, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত— ‘ফ্যাক্টর চরমোনাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ২৩:২৯ অপরাহ্ণ
বিএনপিতে হেভিওয়েটদের লড়াই, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত— ‘ফ্যাক্টর চরমোনাই’
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স : কবে নাগাদ নির্বাচন হবে তার কোন ঠিক না থাকলেও কে হচ্ছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই বরিশালে। এরইমধ্যে এখানে মেয়র পদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ২৪’র গণঅভ্যুত্থান থেকে সৃষ্টি হওয়া দল এনসিপি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। তবে জটিলতা বেঁধেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরে। এখানে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে এখন পর্যন্ত মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির অন্তত ১১ নেতা। তাদের মধ্যে কয়েকজন হেভিওয়েটও রয়েছেন। এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে মিলবে মনোনয়ন সেটা এখনই বলা মুশকিল।

এবারের নির্বাচনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের অনুপস্থিতি। দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হলেও তিনি নিজে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে। সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে সামান্যতম ভুল হলেও তার খেসারত দিতে হতে পারে বিএনপিকে।

জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি নির্বাচনেও নিজস্ব পদ্ধতি নিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াত। এরইমধ্যে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে তারা। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে দেওয়া হয়েছে মেয়র প্রার্থীর টিকিট। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনেও এই হেলালকে বরিশাল সদর আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল জামায়াত। পরে অবশ্য চরমোনাই পীরের আসন হিসাবে এখান থেকে সরে দাঁড়ায় জামায়াত।

জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু হওয়া হেলালের প্রচার আর গনসংযোগ এখনো চলছে অব্যাহত গতিতে। ফলে প্রস্তুতি প্রশ্নে অন্য যে কারো চেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী দল জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরাও আছেন মাঠে। প্রায় প্রতিদিনই মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তারা। কৌশল হিসেবে প্রতি ওয়াক্তে আলাদা আলাদা মসজিদে নামাজ আদায় করছেন হেলাল। কুশল বিনিময় করছেন মুসুল্লিদের সঙ্গে। যে কারো মৃত্যুর খবরে ছুটে যাচ্ছেন সেই বাড়িতে। অংশ নিচ্ছেন জানাজা কিংবা শেষকৃত্যে। খুব গোপনে অসহায় দরিদ্র মানুষকে সহায়তাও দিচ্ছে দলটি।

এখানে বাসদের প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় আছেন দেশব্যাপী পরিচিত শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী ডা. মনিষা চক্রবর্তি। বঞ্চিত মানুষের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যিনি বারবার হয়েছেন হামলা-মারধরের শিকার। ২০১৮’র সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গেলে মেরে তার হাত ভেঙ্গে দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিগত জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে প্রায় ২৩ হাজার ভোট পেয়েছিলেন মনিষা।

এরইমধ্যে মেয়র পদের প্রার্থী চুড়ান্ত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপি। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজসেবক শেখ আব্দুল্লাহ নাসিরের নাম। মানবিক আইনজীবি নাসির তার পেশাগত জীবনে বহু দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে দিয়েছেন আইনি সহায়তা। এছাড়া এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে এম আনোয়ার সিকদারকে। দলীয় প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর থেকে মাঠে আছেন আনোয়ার। সবার দোয়া চেয়ে পোষ্টার লাগানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তার প্রচার।

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর যখন এমন অবস্থান তখন বিএনপিতে চলছে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লড়াই। এই লড়াইয়ে মাঠে আছেন ১১ বিএনপি নেতা। এরা হলেন বিসিসির বর্তমান প্রশাসক বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতউল্লাহ ও এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপির ১নং যুগ্ম আহবায়ক আফরোজা নাসরিন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল এবং সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির।

এই ১১ নেতার মধ্যে বিসিসির প্রশাসক পদে বসার সুযোগে খানিকটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন শিরিন। পকেটের পয়সা খরচ করে গনসংযোগ আর প্রচারণা চালাতে হচ্ছে বাকি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের। এদের মধ্যে আবার ৪ জন বরিশালের পাশাপাশি ঢাকাতেও চালাচ্ছেন লবিং তদবির। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে। ১১ নেতার মধ্যে দু’জন বিসিসি প্রশাসক শিরিন ঘরানা লোক হিসেবে পরিচিত বরিশালে। বাকিদের ঘনিষ্ঠতা বরিশাল সদর আসনের এমপি সাবেক মেয়র ও দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে। নির্বাচনি মাঠে এই ঘরানা আর ঘনিষ্ঠতার বিরোধই হবে বিএনপির জয়-পরাজয়ের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর, এমনটাই মনে করছেন সবাই।

এখন পর্যন্ত সিটি নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্তে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির, ভোটের মাঠের শক্ত পাল্লা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। মেয়র পদে নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন যুগান্তরকে। তার এই সিদ্ধান্তে ভোট সমীকরণের অনেক কিছুই বদলে গেছে বরিশালের ভোটের মাঠে। ২০২৩’র নির্বাচনে হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত ও দিনভর ভোট ডাকাতির পরও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন মুফতি ফয়জুল। সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে বরিশাল সদর আসনে তিনি ভোট পান প্রায় ১ লাখ। যদিও বলা হচ্ছে যে, ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী থাকবে বরিশালের সিটি নির্বাচনে। কিন্তু সেই প্রার্থী যে ফয়জুল করিমের মতো শক্ত অবস্থান গড়তে পারবেন না সেটি অনুমেয়। এমন পরিস্থিতিতে কোনদিকে যাবে চরমোনাইর ভোট, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে এখানে মেয়র পদের জয় পরাজয়।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দ্বদ্ব এবং ঘরানা-ঘনিষ্ঠতার বিরোধ দূর করতে না পারলে জামায়াতের শক্ত প্রার্থী হেলালের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বিএনপির জন্যে—এই মন্তব্য দলেরই বহু মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীর। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশালের জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে দ্বদ্ব আগেও ছিল। তারপরও জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে এদেশের মানুষ। সর্বোপরি আমি মনে করি দলের চেয়ারম্যান আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অজানা কিছু নেই। তার সিদ্ধান্তে যে ভুল হয় না তার প্রমাণ আমরা আগেও পেয়েছি। তিনি বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল