• ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কল এলেই ভেসে উঠবে কলারের নাম, ১ নভেম্বর থেকে ভারতে নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ২৩:২১ অপরাহ্ণ
কল এলেই ভেসে উঠবে কলারের নাম, ১ নভেম্বর থেকে ভারতে নতুন নিয়ম
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অনলাইন ডেক্স : অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রতারণামূলক কল প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশটিতে টেলিকম গ্রাহকদের মোবাইলের পর্দায় কলদাতার নাম ও নম্বর ভেসে ওঠার ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পরিষেবা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এ ব্যবস্থার ফলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি প্রতারণামূলক ফোনকল চিহ্নিত করতেও গ্রাহকেরা সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সিএনএপি হলো ভারতের নিজস্ব কলার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি। এ ব্যবস্থায় ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলারের নাম ও নম্বর দেখানোর ব্যবস্থা চালু হবে। তবে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কে এ পরিষেবা চালুর বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় ফোনের কন্ট্যাক্টসে কোনো নম্বর সংরক্ষিত থাকলে সেই নামই পর্দায় দেখা যাবে। নম্বরটি সংরক্ষিত না থাকলে দেশের ভেতর থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার গ্রাহকতথ্যে নিবন্ধিত নাম দেখানো হবে। তবে বিদেশ থেকে কল এলে পর্দায় শুধু ‘আন্তর্জাতিক কল’ লেখা দেখা যাবে।

এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে টেলিকম সংস্থাগুলোকে গ্রাহকদের নাম ও ফোন নম্বরের তথ্য নিয়ে ডেটাবেস তৈরি, পরিচালনা ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। কল গ্রহণকারী টেলিকম সংস্থা ওই ডেটাবেস থেকে কলারের নাম সংগ্রহ করে গ্রাহকের ফোনে দেখাবে।

 

গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাটি তৈরির ক্ষেত্রে ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কল শেষ হওয়ার পর কোয়ারি-রেসপন্স পদ্ধতিতে কলারের নাম সংরক্ষণ করা যাবে না। এ ছাড়া ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) সুবিধা ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। অর্থাৎ, এ সুবিধা নেওয়া গ্রাহকদের নাম কল গ্রহণকারীর পর্দায় দেখানো হবে না।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও একাধিক মোবাইল সংযোগ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নামের পরিবর্তে পছন্দের নাম দেখানোর সুযোগও দিতে পারে টেলিকম সংস্থাগুলো। তবে সেই নাম ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রিতে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক অথবা পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসায়িক নাম হতে হবে। এ ক্ষেত্রে নামের সত্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পর এ পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ট্রাই) দেওয়া সুপারিশও ডিওটির নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিএনএপি পরিষেবা চালু রাখার বিষয়ে ডিওটির প্রস্তাবে সম্মতি দেয় ট্রাই।

নতুন এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো, ফোনে নম্বর সংরক্ষিত না থাকলেও টেলিকম সংস্থার গ্রাহকতথ্যে নিবন্ধিত নামের মাধ্যমে কলারকে শনাক্ত করা। এর ফলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল সম্পর্কে গ্রাহকেরা আরও সহজে ধারণা পাবেন বলে মনে করছে ভারত সরকার।

বি.দ্র: এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি। © জনতার বরিশাল