নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার দৌলতখান উপজেলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল-হাতাহাতি হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ১৫ জন।
মঙ্গলবার উপজেলার গজনবী স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় গজনবী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদদের পরিবার, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়।
জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ সেখানেই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন ফারুক বলেন, “উপজেলা প্রশাসন আমাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানেও দাওয়াত দিয়েছিল। দাওয়াত পেয়ে আজকে আমাদের নেতাকর্মী নিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই। সেখানে বিএনপির চারজন ও জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতার জন্য চেয়ার সংরক্ষিত ছিল, নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমরা আসন গ্রহণ করি।”
তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের সামনে দৌলতখান পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল ও দৌলতখান উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলামসহ বিএনপি ও যুবদলের বেশ কয়েকজন পদধারীর নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পুরোপুরি নির্বিকার ছিল। এছাড়া তারা চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর চালিয়েছে।”
হামলায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, গুরুতর আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে দৌলতখান পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুলের মোবাইল কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতখান উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাওয়াত পেয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। আমরা গিয়ে দেখি জামায়াতের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সেখানে গিয়ে চেয়ার দখল করে বসে আছে এবং হট্টগোল করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সুধিজন চেয়ার পাচ্ছিল না, এরমধ্যে একজন সুধিজন বলে উঠলো ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আমরা চেয়ার পাচ্ছি না, স্বাধীনতা বিরোধীরা চেয়ার দখল করে বসে আছে।’ তো এসব বিষয় নিয়েই হট্টগোলের পরে হাতাহাতি হয়েছে।”
যুবদল নেতা জহিরুল বলেন, আমি একজন স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোক, জামায়াত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়টি আমার চোখে দৃষ্টিকটু, তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা অপদস্ত হওয়ার ঘটনায় আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।”
দৌলতখান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসার আসনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”