অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। সমমনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আট-দলীয় জোট গঠনের আলোচনা চললেও বরিশালের ছয়টি আসন ছাড়তে রাজি নয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সম্প্রতি বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ইঙ্গিত দেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘বরিশাল আমার জন্মভূমি এবং ইসলামী আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটি। আমাদের দল এখান থেকেই গড়ে উঠেছে। দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী। বাস্তবতা বিবেচনায় এ অঞ্চলের ২১টি আসনের মধ্যে দুই তিনটি ছাড়া বাকি আসনগুলোতে ইসলামী আন্দোলন অগ্রাধিকার পাবে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসনেই নির্বাচন করব। জোট হলে আমিরের এলাকার আসন আমিরকেই ছেড়ে দিতে হয়। যেখানে যে দল শক্তিশালী, সেখানে সেই দলই প্রার্থী দেবে। পিরোজপুরের সাইদীর আসনের মতো জায়গায় আমরা ছাড় দেব। যেখানে জামায়াত শক্তিশালী, সেখানে আমরাও ছাড় দেব। আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগির এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
বরিশাল–৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিতে ফয়জুল করীম পরিচিত মুখ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন। উভয়বারই তার প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোট পান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পান ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসেন হেলাল বলেন, সমমনা ইসলামী আট-দলীয় জোটে এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের ছয়টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী পাঁচ হাজারের কিছু বেশি ভোট পান, যা ১৯৯৬ সালে কমে সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি নেমে আসে। এরপর দীর্ঘ সময় এসব আসনে দলটি আর প্রার্থী দেয়নি।
অন্যদিকে, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বরিশালে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়। ২০০৮ সালে তারা ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পায়। ২০১৮ সালে বরিশাল সদর আসনে হাতপাখা প্রতীকে ২৭ হাজার ৬২ ভোট পায় দলটি।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রায় ৯ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পান। এসব হিসাবে বরিশাল বিভাগে ইসলামী আন্দোলনের গড় ভোটের হার আট থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে, যা জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি।