নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড রবীন্দ্রনগর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম রোকনের ছেলে অনিক (৩০) খলিফাকে পরিকল্পিত মধ্যযুগীয় কায়দায় ইট দিয়ে পিছন থেকে আঘাত করে হত্যা করার চেষ্টা করেন একই ওয়ার্ডের পশ্চিম পাংশা গ্রামের মালেক রাঢ়ীর ছেলে মো. ফজলুর রাঢ়ী (৪৫)।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার তালুকদার বাড়ির সামনে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী এনায়েত করিমের স্ত্রী মনি বলেন, “ঘটনা আজ সকালে আমার দোকানের সামনে ঘটে। যেহেতু দোকান আর ঘর একসাথে, তাই ঘরের কাজ সামলে দোকানদারিও করি। আমি ফজলু ও অনিককে দোকানের সামনে বসে কথা বলতে দেখে এর ফাঁকে ঘরে ঢুকি। হঠাৎ ঘরের ভিতর থেকে শুনি অনিক বলছে, ‘আপনি আমার বড় ভাই, আপনি আমাকে মারছেন কেন?’ আর ফজলু বলছে, ‘দৌড় দে।’ তবে কোনো চিৎকার শুনিনি। আমি ঘর থেকে বের হয়ে দেখি অনিক আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে আছে। ফজলু বারবার অনিকের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করতেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এরপর আমি বুঝলাম ফজলু অনিককে আমার ঘরের সামনে রাখা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। আমি অনেক চিৎকার করছি, ‘ছেলেটাকে বাঁচাও’। কিছুক্ষণ পরে এক বাইক চালক এসে অনিককে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে তড়িঘড়ি ফজলু পালিয়ে যায়। এছাড়া এক ভ্যান চালক বলছিল অনিককে শাকিব সরদার এই দোকানের সামনে রেখে চা—বিস্কুট খেতে বলেছে।”
আহত অনিকের বাবা ফখরুল ইসলাম রোকন বলেন, “আমার ছেলে সকালবেলা বাইসাইকেলে ঘর থেকে বের হয়। পরে একজন লোক অনিককে শাকিবের সঙ্গে দেখে আমাকে ফোন করে। তখন আমি শাকিবকে ফোন দিয়েছি। শাকিব বলেছিল, ‘অনিক আমার সঙ্গে আছে। আমি তিন মঠ তাকে নাস্তা খাওয়াই, আপনার বাসায় পৌঁছে দেবো মামা’। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে একটি ফোন আসে, কেউ অনিককে মেরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছে। আমি বাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে শাকিবকে সেখানে দেখিনি। অনিককে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন।”
শাকিব বলেন, “অনিক আমার সঙ্গে নাস্তা খেয়েছে। পরে তাকে অনেকের সামনে রেখে আমি কাজে চলে গিয়েছিলাম। আমি তো জানতাম না সেখানে ফজলু উপস্থিত আছে।”
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মো. আল মামুন‑উল ইসলাম বলেন, “মাধবপাশা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম রোকনের ছেলে অনিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে তদন্তে অফিসার পাঠানো হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।”